টপিকঃ প্রাচীন যুগ

বিষয়

বাংলা সাহিত্য

বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ, চর্যাপদ

Free Access - Limited to 20 questions total

1. নিচের পঙ্ক্তিটি কার রচনা? 'আলি এঁ কালি এ বাট রুহ্মেলা। তা দেখি কাহ্ন বিমনা ভইলা।'

ক) কাহ্নপা
খ) চাটিলপা
গ) শান্তিপা
ঘ) ভুসুকুপা
Note :
পঙ্ক্তিটি কাহ্নপার রচিত একটি পদ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ: আলি ও কালি (শ্বাস-প্রশ্বাসের দুই পথ) দ্বারা পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, তা দেখে কাহ্ন (সাধক) বিষণ্ণ হলেন। এটি যোগসাধনার একটি অবস্থার রূপক বর্ণনা।

2. চর্যাপদের সঙ্গে কোন ধর্মের নাম সংশ্লিষ্ট?

ক) ইসলাম ধর্ম
খ) খ্রিষ্টধর্ম
গ) শিখ ধর্ম
ঘ) বৌদ্ধধর্ম
Note :
চর্যাপদের পদকর্তারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। তাঁরা বৌদ্ধধর্মের একটি বিশেষ শাখা 'সহজযান'-এর অনুসারী ছিলেন। তাই চর্যাপদের সঙ্গে বৌদ্ধধর্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

3. 'সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?

ক) চর্যাপদ
খ) পদাবলি
গ) মঙ্গলকাব্য
ঘ) রোমান্সকাব্য
Note :
চর্যাপদের ভাষা 'সন্ধ্যাভাষা' বা 'সান্ধ্যভাষা' নামে পরিচিত। এই ভাষার বাইরের অর্থ এক, কিন্তু এর একটি গভীর বা গুহ্য অভ্যন্তরীণ অর্থ রয়েছে, যা কেবল সাধনার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। আলো-আঁধারির মতো রহস্যময় বলেই একে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।

4. 'চর্যাপদ' কোন ছন্দে লেখা?

ক) অক্ষরবৃত্ত
খ) মাত্রাবৃত্ত
গ) স্বরবৃত্ত
ঘ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
Note :
চর্যাপদের ছন্দ মূলত মাত্রাবৃত্ত। এর প্রতিটি পদে সাধারণত ১৬টি মাত্রা থাকে, যা চারটি পর্বে বিভক্ত (৪+৪+৪+৪)। তবে কিছু পদে মাত্রার ব্যতিক্রমও দেখা যায়।

5. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?

ক) নিরঞ্জনের রুম্মা
খ) দোহাকোষ
গ) গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ঘ) ময়নামতীর গান
Note :
অপশনগুলোর মধ্যে 'দোহাকোষ' প্রাচীন যুগের নিদর্শন, যা অপভ্রংশ ভাষায় রচিত এবং চর্যাপদের সাথে সম্পর্কিত। অন্যগুলো (নিরঞ্জনের রুম্মা, গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস, ময়নামতীর গান) মূলত মধ্যযুগের নাথ সাহিত্যের অংশ।

6. 'চর্যাপদ' তিব্বতি ভাষায় কে অনুবাদ করেন?

ক) মুনিদত্ত
খ) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
গ) কীর্তিচন্দ্র
ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
Note :
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদক ছিলেন কীর্তিচন্দ্র বা চন্দ্রকীর্তি। ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী এই তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করে চর্যার অনেক অজানা তথ্য উন্মোচন করেন।

7. চর্যাপদের কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়?

ক) ২৩ নং পদ
খ) ১৬ নং পদ
গ) ১০ নং পদ
ঘ) ১৮ নং পদ
Note :
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে ২৩ সংখ্যক পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গিয়েছিল। এর শেষাংশ ছিল না। পরে তিব্বতি অনুবাদ থেকে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী এর পূর্ণাঙ্গ রূপ উদ্ধার করেন।

8. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় কত সালে?

ক) ২০০৭ সালে
খ) ১৯০৭ সালে
গ) ১৯১৬ সালে
ঘ) ১৯০৯ সালে
Note :
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

9. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?

ক) গোবিন্দদাস
খ) কায়কোবাদ
গ) কাহ্নপা
ঘ) ভুসুকুপা
Note :
চর্যাপদের একজন পদকর্তা ভুসুকুপা তাঁর ৪৯ সংখ্যক পদে লিখেছেন, 'আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী', অর্থাৎ 'আজ ভুসুকু বাঙালি হলো'। এই উক্তির মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

10. 'চর্যাপদ' প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?

ক) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
খ) ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ
গ) শ্রীরামপুর মিশন
ঘ) এশিয়াটিক সোসাইটি
Note :
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত 'চর্যাপদ' ১৯১৬ সালে কলকাতা থেকে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' কর্তৃক 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়।

11. বাংলা সাহিত্যের যুগকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

ক) ৪টি
খ) ৩টি
গ) ৫টি
ঘ) ৬টি
Note :
পঠন-পাঠন ও আলোচনার সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়। যথা: ১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০), ২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০), এবং ৩. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান)।

12. কোন রাজবংশের আমলে 'চর্যাপদ' রচনা শুরু হয়?

ক) পাল
খ) সেন
গ) মোগল
ঘ) তুর্কি
Note :
'চর্যাপদ' রচনার সময়কাল (সপ্তম-দ্বাদশ শতক) বাংলায় পাল রাজবংশের (আনুমানিক ৭৫০-১১৭৪ খ্রি.) শাসনের সঙ্গে মিলে যায়। পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যা চর্যাপদ রচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল।

13. বাংলা ভাষার প্রথম কবিতা সংকলন-

ক) চর্যাপদ
খ) বৈষ্ণব পদাবলি
গ) ঐতরেয় আরণ্যক
ঘ) দোহাকোষ
Note :
'চর্যাপদ' হলো বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কবিতা বা গানের সংকলন। এটিই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 'বৈষ্ণব পদাবলি' মধ্যযুগের সৃষ্টি। 'ঐতরেয় আরণ্যক' বৈদিক সাহিত্যের অংশ এবং 'দোহাকোষ' মূলত অপভ্রংশ ভাষায় রচিত, যদিও চর্যার সাথে এর ভাবগত মিল রয়েছে।

14. কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন?

ক) কাহ্নপা
খ) লুইপা
গ) ডাকার্ণব
ঘ) মুনিদত্ত
Note :
চর্যাপদের আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিতে সংস্কৃত ভাষায় একটি টীকা বা ব্যাখ্যা সংযুক্ত ছিল। এই টীকার রচয়িতা ছিলেন মুনিদত্ত। তাঁর টীকার সাহায্যেই চর্যার গুহ্য অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

15. 'অভিসময়বিভঙ্গ' কার রচনা?

ক) কাহ্নপা
খ) হাড়িপা
গ) ভাদে
ঘ) লুইপা
Note :
'অভিসময়বিভঙ্গ' গ্রন্থটি চর্যাপদের আদি কবি লুইপার রচিত একটি বিখ্যাত তান্ত্রিক গ্রন্থ। এটি তাঁর পাণ্ডিত্য ও দার্শনিক গভীরতার পরিচায়ক।
You've reached the free limit!

You can only see 20 questions with free access.

Login to upgrade