টপিকঃ ধ্বনি ও বর্ণ
1.
'হৃদয়' শব্দে 'হ'-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে-?
হৃদয়' শব্দে 'হ'-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋ-কার (ৃ)। অর্থাৎ, হ + ঋ = হৃ। সাধারণত বর্ণটি 'হ'-এর নিচে যুক্ত হয়ে 'হৃ' রূপ ধারণ করে, যেমনটি 'হৃদয়' বা 'হৃদপিণ্ড' শব্দে দেখা যায়। অনেকেই ভুল করে এটিকে 'ঋ-ফলা' মনে করেন, কিন্তু যেহেতু 'ঋ' একটি স্বরবর্ণ, তাই ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হলে এটি 'ঋ-কার' হিসেবেই গণ্য হয় l
2.
বাংলা বর্ণমালায় কতটি বর্ণ আছে?
বাংলা বর্ণমালা
বাংলা বর্ণমালায় মোট পঞ্চাশ (৫০)টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ এগার (১১)টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশটি (৩৯)টি।
১. স্বরবর্ণ : অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ(১১টি)
২. ব্যঞ্জনবর্ণ : ক খ গ ঘ ঙ (৫টি)
চ ছ জ ঝ ঞ (৫টি)
ট ঠ ড ঢ ণ (৫টি)
ত থ দ ধ ন (৫টি)
প ফ ব ভ ম (৫টি)
য র ল (৩টি)
শ ষ স হ (৪টি)
ড় ঢ় য় ৎ (৪টি)
মোট ৫০টি
বিশেষ জ্ঞাতব্য : ঐ, ঔ - এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন। যেমন – . অ + ই = ঐ, অ + উ =ঔ
3.
বাতাসে কোনো রকম বাধা ছাড়া একইসঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে উচ্চারিত বাগধ্বনিগুলিকে কী বলে?
ফুসফুস-তাড়িত বাতাস কোনো রকম বাধা ছাড়া একইসঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়ে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে "অনুনাসিক স্বরধ্বনি" বলে ।
4.
বাংলায় পার্শ্বিক ধ্বনি কয়টি?
যে ধ্বনি জিহবার অগ্রভাগকে মুখের মাঝামাঝি দন্তমূলে ঠেকিয়ে রেখে জিহবার এক বা দু পাশ দিয়ে মুখবিবর থেকে বায়ু বের হয়ে উচ্চারিত হয় তাকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে। যেমন- ল।
5.
'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে কথা বলে তার মূলে আছে কতকগুলো ধ্বনি।
-ড. হায়াৎ মামুদ ‘ভাষা-শিক্ষা’ গ্রন্থে বলেন, ‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখ থেকে যে আওয়াজ বা শব্দ বের হয় তাকে ধ্বনি বলে। তবে, ব্যাকরণে শুধু মানুষের মুখনিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
-অর্থাৎ অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান। কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়। একজন বলে অন্যজন শোনে। সেই ধ্বনিকে, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে, বাধ্বনিকে একটা দৃশ্যরূপ দেওয়ার জন্যই বর্ণের সৃষ্টি হয়েছে।'
-ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিকতা বজায় রাখতে হলে তার প্রধান উপায় কথা বলা, মুখ খোলা, আওয়াজ করা। সে আওয়াজ বা ধ্বনিগুলোর একমাত্র শর্ত হচ্ছে যে, সেগুলো অর্থবোধক হওয়া চাই।’
-‘অর্থবোধকতা’ প্রসঙ্গে ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থে বলেন, ‘অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি।' মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, নাসিকা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
6.
ঠোঁট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় কোন ধ্বনিটি?
ঠোট ও নাকের ছিদ্রের সাহায্যে উচ্চারিত হয় 'ম' ধ্বনিটি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
7.
কোনগুলি ওষ্ঠ্যধ্বনি?
ধ্বনি অনুযায়ী শ্রেণী
কন্ঠ্য ধ্বনি: ৫টি (ক, খ, গ, ঘ, ঙ)
তালব্য ধ্বনি: ৮টি (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়)
মূর্ধন্য ধ্বনি: ৯টি (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়)
দন্ত্য ধ্বনি: ৭টি (ত, থ, দ, ধ, ন, স, ল)
ওষ্ঠ্য ধ্বনি: ৫টি (প, ফ, ব, ভ, ম)
8.
আধুনিক বাংলা ভাষায় মোট কয়টি বর্ণ পূর্ণ ব্যবহৃত হয়?
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ আছে ৫০টি। তার মধ্যে স্বরবর্ণ ১১ টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। কিন্তু আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে কিছু ব্যঞ্জন বর্ণের মধ্যে উচ্চারণে পার্থক্য নেই। যেমন: ন, ণ; ড়, ঢ়;শ, ষ, স;জ, য। তাই আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে পূর্ণরূপে ব্যবহৃত বর্ণ ৪৫ টি।
9.
নিচে বাংলা ব্যঞ্জনে ভুলভাবে যুক্ত হয়েছে-?
- ক্ষ=ক্+ষ
- ত্ম= ত+ম
- হ্ম=হ্+ম
- জ্ঞ=জ্+ঞ
10.
'ঞ্জ' যুক্তবর্ণটির মধ্যে রয়েছে-?
'ঞ্জ' যুক্ত বর্ণের গঠিত হয় ঞ্ + জ। যেমন, গঞ্জ, রঞ্জ,কুঞ্জ ।