সুশাসনের মূলভিত্তি –
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিশ্চিত করে তাকে সুশাসন বলে।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- একটি দেশের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার কারণ এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারি ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
Related Questions
বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ‘শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক। তাঁর নৈতিক মতবাদ তিনটি বিবৃতির উপর নির্ভরশীল।
এগুলো হলো-
ক. সদিচ্ছাই একমাত্র সৎ,
খ. কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
গ. নৈতিক নিয়ম এক নিঃশর্ত আদেশ।
কান্টের নীতিতত্ত্ব অনুসারে, নৈতিক আদেশগুলো সর্বতোভাবে শর্তহীন ও বিশ্বজনীন। এ আদেশ পুরোপুরিভাবে পরিণতিবাদের প্রভাবমুক্ত।
কান্ট শর্তহীন আদেশকে ৩ ভাবে প্রকাশ করেন।
যথা:
১. এমনভাবে কাজ কর যেন তোমার ইচ্ছায় তোমার কাজের নীতি প্রকৃতির বিশ্বজনীন আইন হয়।
২. এমনভাবে কাজ কর যেন মানবতাকে, তা সে তোমার নিজ ব্যক্তিত্ব হোক অথবা হোক অন্য ব্যক্তিত্ব, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই শুধু লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করতে পারো, উপায় হিসেবে নয়।
৩. বুদ্ধিবাদী হিসেবে প্রত্যেক বৌদ্ধিক সত্তার ইচ্ছাকে হতে হবে একটি বিশ্বজনীন আইন প্রণয়নকারী ইচ্ছা।
-নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনে অনুসরণযোগ্য এমন কিছু আচরণ বিধি, যা মানুষের জীবন ব্যবস্থা ও জীবন পদ্ধতিকে সঠিক ও সুন্দর পথে পরিচালনা করে।
-ধর্মের কল্যাণধর্মী মর্মবাণী অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটে।
-ধর্ম থেকে উৎসারিত নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন-অগ্রগতি সাধন করে।
-নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।
-রাষ্ট্রের সর্বত্র শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে।
-এটি রাষ্ট্রের বিদ্যমান নিয়মনীতি ও আইন কানুনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ অব্দে গ্রিসের এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন।
-সক্রেটিসের দার্শনিক চিন্তাধারা ছিল জ্ঞানতত্ত্ব, আত্মজ্ঞান, সদগুণ ও মরমীবাদ সক্রেটিসের জ্ঞানতত্ত্ব মতে, নৈতিক ক্রিয়া বা ন্যায়ের ভিত্তি হলো প্রকৃত জ্ঞান এবং অন্যায়ের ভিত্তি অজ্ঞতা।
-তার মতে, যার মধ্যে ন্যায়বোধ সম্পর্কে জ্ঞান নেই, তার পক্ষে ন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়। সক্রেটিসের মতে, আত্মজ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মানুষের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য।
-তিনি মনে করতেন নৈতিক জ্ঞান জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর সব জ্ঞানই নৈতিক জ্ঞানের অধীন। এজন্যই সক্রেটিস সদগুণ ও জ্ঞানকে একত্রে করে বলেছেন 'জ্ঞানই পূণ্য'।
তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি-
‘নিজেকে জানো।’,
‘তুমি কিছুই জান না এটা জানা-ই জ্ঞানের আসল মানে।’
‘টাকার বিনিময়ে শিক্ষা অর্জনের চেয়ে অশিক্ষিত থাকা ভালো।’
‘মৃত্যুই হলো মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় আশীর্বাদ।'.
‘বিস্ময় হলো জ্ঞানের শুরু।'
-সত্য ও জ্ঞানের প্রতি অবিচল সক্রেটিসকে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তথাকথিত অভিযোগে তাকে হেমলক বিষপানে মৃত্যুদণ্ড দেয়
অন্যদিকে, প্লেটো তার জ্ঞান মতবাদ বর্ণনা করতে গিয়ে সক্রেটিসের ‘জ্ঞানই পুণ্য’ বা ‘অনুভূতিই জ্ঞান' মতবাদকে অস্বীকার করে বলেন, জ্ঞানকে ব্যক্তি মনের অনুভূতি বা পুণ্য বলে ধরে নিলে জ্ঞানের সর্বজনীনতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সত্য মিথ্যার পার্থক্য ঘুচে যায়।
প্লেটোর মতে, জ্ঞান এমন কিছুর নির্দেশক, যা স্থায়ী ও সার্বিক । সঠিক জ্ঞান আমাদের সত্যের সন্ধান দেয়। তিনি মনে করেন জ্ঞান মূলত প্রজ্ঞার উপর প্রতিষ্ঠিত।
-২০০০ সালে জাতিসংঘ Millennium Development Goals বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ঘোষণা করে, যা শেষ হয় ২০১৫ সালে।
-এতে মোট ৮টি লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
-MDGs এর ৮টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- ১৯৮০ এর দশকে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলিকে বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া ঋণ কার্যক্রমে সফলতা না আসায় ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা প্রাপ্তির জন্য আফ্রিকার দেশগুলিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার শর্ত আরোপ করে।
- কারণ, বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ গুলোর টেকসই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার মনে করে।
- বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ প্রাপ্তির শর্ত হিসাবে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক ‘সুশাসন’ প্রত্যয়টি প্রবর্তন করেন।
জব সলুশন