টপিকঃ বিসিএস প্রশ্ন ব্যাংক
1.
‘লাঠালাঠি’- এটি কোন সমাস?
লাঠালাঠি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তর পদে 'ই' যুক্ত হয়। যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই = লাঠালাঠি।
2.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থ ধারণ করছে?
উৎক্ষেপণ' (কোনো কিছু উপরে নিক্ষেপ করা বা উৎক্ষেপণ করা) শব্দটিতে 'উৎ' উপসর্গটি 'ঊর্ধ্ব' বা উপরের দিক অর্থ ধারণ করছে। 'উৎ' উপসর্গের অন্যান্য অর্থ 'উচ্চ' , 'উত্কৃষ্ট' ইত্যাদি হতে পারে; তবে 'উৎক্ষেপণ' শব্দে এটি সুস্পষ্টভাবে উপরের দিক নির্দেশ করে।
3.
‘মেছো’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
- 'মেছো’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয়--মাছ+উয়া(ও)।
• মাছ+উয়া>ও = মেছো
- এখানে 'উয়া>ও' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ যা উপজীবিকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ছাড়া বাকি সব প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন : বাঘ+আ=বাঘা; ঘর+আমি=ঘরামি ইত্যাদি।
4.
কোনটি বিশেষণ?
বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে। 'সৎ' শব্দটি কোনো ব্যক্তির গুণ (যেমন: সৎ লোক) প্রকাশ করে, তাই এটি একটি বিশেষণ পদ। 'একতা', 'দর্শন', 'জনতা' বিশেষ্য পদ।
5.
‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে’ এখানে ‘জ্বর জ্বর’ শব্দ দুটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হওয়াকে বলে-
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়। যেমনঃ ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে'। অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।
6.
'ঐক্যমত' শব্দটি কোন বিবেচনায় অশুদ্ধ নয়?
ঐক্যমত' শব্দটি 'মতের ঐক্য' অর্থে সমাসসাধিত শব্দ হিসেবে সঠিক। অন্যান্য অপশনগুলো শব্দ গঠনের নিয়ম অনুযায়ী অশুদ্ধ।
7.
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা উচ্চ-মধ্য অবস্থানে থাকে সেগুলি উচ্চমধ্য স্বরধ্বনি বলে। যেমন- এ,ও। যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা নিম্ন মধ্য অবস্থানে থাকে, সেগুলি নিম্নমধ্য স্বরধ্বনি। যেমন- অ্যা,অ।
8.
শুদ্ধ নয় বানান–
উর্দ্ধ - এর সঠিক বানান 'ঊর্ধ্ব' ।
9.
গৃহী এর বিপরীত শব্দ—
• 'গৃহী' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সন্ন্যাসী
• কিছু ব্যাতিক্রম বিপরীত শব্দ যা পরীক্ষায় বার বার আসেঃ
আশু - বিলম্ব
অনিষ্ট - ইষ্ট
মৌন - মুখরতা
মৌনী - মুখর
নয় - অবিনয়
খাতক - মহাজন
লায়েক - নালায়েক
আদিষ্ট - নিষিদ্ধ
রাজি - গররাজি
প্রসন্ন - বিষণ্ন
উৎকৃষ্ট - নিকৃষ্ট
10.
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কত?
বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ ১১টি কিন্তু স্বরধ্বনি ৩২টি। এদের মধ্যে মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা এবং যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। যৌগিক স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ মাত্র ২টি- ঐ, ঔ। যৌগিক স্বরধ্বনিকে দ্বিস্বর বা সন্ধিস্বর বা যৌগিক স্বরও বলা হয়।
11.
যে ছন্দের মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা চার, তাকে বলা হয়-
স্বরবৃত্ত ছন্দ বাংলা সাহিত্যে প্রচলিত প্রধান তিনটি ছন্দের একটি। স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা কবিতাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চার মাত্রার চালে চলতে পছন্দ করে। প্রধানত ছড়া এবং গান লিখতেই এই ছন্দ সচরাচর ব্যবহৃত হয়। এই ছন্দের বৈশিষ্ট্য-
-স্বরবৃত্তের মূল বিষয়টিই আবর্তিত হয় দুটি সিলেবল বা দলকে (মুক্ত ও বদ্ধ দল) ঘিরে।
-স্বরবৃত্ত দ্রুত লয়ের ছন্দ।
-এই ছন্দের মূলপর্ব বা পূর্ণপর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
-মুক্তদল বা মুক্তাক্ষর এবং রুদ্ধদল বা বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্রাবিশিষ্ট।
-পর্বগুলো ছোট এবং দ্রুতলয়বিশিষ্ট। -এই ছন্দে যতি এবং দল ঘন ঘন পড়ে বলে বাগযন্ত্র দ্রুততা লাভ করে।
-প্রতি পর্বের প্রথম অক্ষর শ্বাসাঘাতযুক্ত।
-এই ছন্দের প্রয়োজনে ৫ মাত্রাকে সংবৃত উচ্চারণে ৪ মাত্রার মত আবৃত্তি করা যায়, আবার কোথাও এক মাত্রা কম থাকলে বিবৃত উচ্চারণ করে এক মাত্রাকে দুই মাত্রায় টেনে নেয়া যায়।
12.
বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পারিক সম্পর্ক ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের (বিশেষ্য, সর্বনাম) যে সম্পর্ক, তাকে 'কারক' বলে। সুতরাং, শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক মূলত কারকের আলোচ্য বিষয়।
13.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
নীরব' শব্দটি 'নিঃ + রব' এই বিসর্গসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয়েছে যেখানে বিসর্গ 'র' তে রূপান্তরিত হয়েছে। 'উজ্জ্বল' গঠিত হয়েছে 'উৎ + জল' থেকে যা ব্যঞ্জনসন্ধি; 'সংগ্রাম' গঠিত হয়েছে 'সম্ + গ্রাম' থেকে যা ব্যঞ্জনসন্ধি। 'মানোত্তীর্ণ' এর ক্ষেত্রে 'মনঃ + উত্তীর্ণ' এর পরিবর্তে 'মান + উত্তীর্ণ' হলে এটি স্বরসন্ধি হয়; কিন্তু 'মানোত্তীর্ণ' একটি বিসর্গসন্ধি নয়।
14.
সঠিক বানান কোনটি?
সঠিক বানান কুসংস্কার ।
15.
শিব রাত্রির সলতে-বাগধারাটির অর্থ কী?
শিবরাত্রির সলতে বাগধারাটির অর্থ - একমাত্র সন্তান বা বংশধর।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
রাত্রিকালীন যুদ্ধ = সৌপ্তিক ।
দুই রথারোহীর যোদ্ধার যুদ্ধ = দ্বৈরথ ।
অশ্ব, রথ, হস্তী ও পদাতিক সৈন্যের সমাহার = চতুরঙ্গ ।
যুদ্ধ থেকে যে বীর পালায় না = সংশপ্তক
জয় সূচনা করে এরুপ তিথি = শুভ তিথি
দিনে একবার আহার করে যে = একাহারী।
যিনি বিদ্যালাভ করেছেন = কৃতবিদ্যা।
16.
‘উদ্বাসন’ শব্দের অর্থ কী?
যখন কোনও জাতি বা জনগোষ্ঠী তাদের স্বদেশভূমি থেকে বিশ্বের অন্যত্র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই ব্যাপারটিকে বিক্ষিপ্ত উদ্বাসন (ইংরেজি: Diaspora) বলা হয়। সাধারণত বিক্ষিপ্ত উদ্বাসন পরিভাষাটি দ্বারা কোন জনগোষ্ঠীর তাদের স্বভূমি থেকে অনৈচ্ছিকভাবে ছড়িয়ে পড়াকে বোঝানো হয়।
17.
'বিরাট গরু-ছাগলের হাট'- ব্যানারে লেখা এই শিরোনামকে অপপ্রয়োগ বলা যায় না কেন?
এখানে 'বিরাট' শব্দটি 'হাট' কে বিশেষিত করছে অর্থাৎ হাটটি যে আয়তনে বড় তা বোঝাচ্ছে। তাই এটি অপপ্রয়োগ নয়।
18.
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?
বদ্ধ পরিকর' একটি বাগধারা যার অর্থ হলো কোনো কাজ করার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই 'পরিকর' এখানে 'প্রতিশ্রুত' বা দৃঢ় সংকল্পযুক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 'প্রতিজ্ঞা' (B) একটি বিশেষ্য পদ হলেও 'প্রতিশ্রুত' (D) বিশেষণে বদ্ধ পরিকরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 'কোমর' (C) 'পরিকর' এর আভিধানিক অর্থ হলেও এই বাক্যে এটি বাগধারার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
19.
ব্যাং' শব্দটিং দিয়ে লিখতে হবে, কারণ'-
ব্যাং' শব্দের ঙ-এর হসন্ত উচ্চারণ হয়। তাই বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী এটি ং দিয়ে লেখা হয়।
20.
বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিলেন?
অস্ট্রিক প্রাচীন বাংলার একটি নৃ - গোষ্ঠী।
প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
এরা বাংলাদেশের কোল, ভীল, সাঁওতাল প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ রূপে চিহ্নিত।
ফলে বাংলার আদি অধিবাসীদের অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিলেন।
21.
বাক্যের ক্রিয়ায় সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে?
বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে। যেমন- কে, রে, এ, য়, তে, এতে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হইতে, থেকে, চেয়ে প্রভৃতি। শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতির এবং ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে। যেমন- কৃ + তা = কর্তা; বচ + ক্তি = উক্তি; শুচ + ঘঞ = শোক; মনু + ষ্ণ = মানব; এখানে তা, ক্তি, ঘঞ ও ষ্ণ হলো প্রত্যয়। বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে তাকে অনুসর্গ বলে। যেমন- প্রতি, বিনা, বিনে, বিহনে, হেতু, মাঝে, মধ্যে, পরে, তরে, পানে, পাছে, ভেতর, নিকট, অধিক, সহ, বই, অবধি, ইত্যাদি।
22.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
ডাক্তারখানা (ডাক্তার+খানা), অনুগমন (অনু+√গম্+অন) ও সম্রাট (সম+√রাজ+ক্বিপ) তিনটি শব্দই প্রত্যয়যোগে গঠিত। আবার, অনুগমন (অনু+গমন) সন্ধিযোগে ও উপসর্গযোগেও গঠিত হয়। সম্রাট (সম্+রাট) সন্ধিযোগেও গঠিত হয়।
23.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: মিতা+আলি = মিতালি। এখানে ‘মিতা' অর্থ বন্ধু, সখা, সুহৃদ; ‘মিতালি’ অর্থ মিত্রতা, সখ্য, বন্ধুত্ব।
সুতরাং, ‘মিতালি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, যা যৌগিক শব্দের সকল শর্ত পূরণ করেছে।
-'প্রবীণ’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ প্রকৃষ্টরূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু ‘প্রবীণ’ শব্দটি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা রূঢ়ি শব্দ।
-সরোবরে জন্মে যা- সরোজ; শৈবাল, শালুক, পদ্ম প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ সরোবরে জন্মে। কিন্তু ‘সরোজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্ম’ অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা যোগরূঢ় শব্দ।
-জেঠা+আমি = জেঠামি। ‘জেঠা’ শব্দটির অর্থ পিতার বড় ভাই। কিন্তু ‘জেঠামি’ শব্দটি দ্বারা নিন্দা জ্ঞাপনে মাতব্বরি বা পাকামি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা রূঢ়ি শব্দ।
24.
কোন শ্রেণির ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত?
নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। মানুষের আচরণ বা ঐচ্ছিক ক্রিয়া (Voluntary action) হচ্ছে নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
25.
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা-
মুহম্মদ আবদুল হাই শিষ্ট কথ্য বাংলা ভাষার ধ্বনি এবং ধ্বনিতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণে ব্রতী হন এবং তাঁর গবেষণালব্ধ ফল ‘ধ্বনি বিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ (১৯৬৫) নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
* মুহম্মদ আবদুল হাই-এর এই গ্রন্থটি অধ্যাবধি বাংলা ভাষায় রচিত বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব পর্যালোচনার সর্বাধিক গভীর বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ।
* আবদুল হাই এ গ্রন্থে বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা, দ্বিস্বর এবং অর্ধস্বরের গঠন, ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোর ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিচয়, বাক্প্রবাহে ধ্বনির রূপ, সন্ধি ও সামগ্রিকীভবন, ধ্বনিগুণ এবং স্বরতরঙ্গ বিষয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন।
বাংলা ভাষা সংক্রান্ত বই:
• বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত - ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
• ভাষার ইতিবৃত্ত - সুকুমার সেন
• বাংলা ভাষার সংস্কার, মুসলিম বাঙলা সাহিত্য, মনীষা মঞ্জুসা - মুহাম্মদ এনামুল হক
• সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্য, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব - মুহাম্মদ আব্দুল হাই।
26.
.“যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম”– এটি কোন জাতীয় বাক্য?
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যে সাথে এক বা একাধিক আশ্রিতবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় ,তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে ।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি , যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও ,যেহেতু-সেহেতু ,যত-তত ,যেমন-তেমন ,যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষে যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে ,তাকে জটিল বাক্য বলে।
সাধারণ মিশ্র বাক্য যেমন হয়ঃ
১: মিশ্র বাক্যে একের বেশি স্বাধীন খণ্ড বাক্য থাকবে।
২: মিশ্র বাক্যে অন্তত একটি অধীন খণ্ডবাক্য থাকবে।
৩: জটিল+জটিল, জটিল+সরল, জটিল+যৌগিক এই তিন ভাবে (অথবা উল্টো দিক থেকে) মিশ্র বাক্য হতে পারে।
এ ছাড়া যৌগিক+সরল/সরল+যৌগিক বাক্যেও মিশ্র বাক্য হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটি বাক্যকে অপ্রধান খণ্ডবাক্যের ভূমিকা পালন করতে হবে।
যেমন: রাম এসেছিল এবং শ্যাম এসেছিল, সে কথা তারা আমাকে জানায়নি। (যৌগিক+সরল)
এখানে যৌগিক বাক্যটি একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্যের মত কাজ করছে।
27.
কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে ?
ধাতু বা ক্রিয়ামূল দ্বারা গঠিত কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে অর্থাৎ ধাতুর পূর্ববর্তী পদকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: পঙ্ক-√জন্+অ = পঙ্কজ।
প্রদত্ত ‘পঙ্কজ’ শব্দে ‘পঙ্ক’ হলো উপপদ, ‘√জন’ হলো ধাতু, ‘অ’ হলো প্রত্যয়।
ধাতু ও প্রত্যয় সাধিত পদকেই কৃদন্ত পদ বলে। পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
এখানে ‘পঙ্কে’ উপপদ, জন্মে- কৃদন্ত পদ।
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
যেমন: মিঠা+আই = মিঠাই। এখানে ‘মিঠা’ হলো প্রাতিপদিক ৷
28.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র (খ) –তে প্রদত্ত বাক্যটিই নির্ভুল।
পক্ষান্তরে,
ক) গোপন- এর স্থলে গোপনীয়,
(গ) সলজ্জিত –এর স্থলে ‘সলজ্জ’ এবং
(ঘ) বাহুল্যতা –এর স্থলে ‘বাহুল্য’ হবে।
29.
কোনটি তদ্ভব শব্দ ?
"চাঁদ" শব্দটি একটি তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দ হলো সেই সব শব্দ যা সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে। "চাঁদ" শব্দটি সংস্কৃত "চন্দ্র" শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা "চাঁদ" হয়েছে।
গগন): "গগন" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "গগন" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সূর্য): "সূর্য" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "সূর্য" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
নক্ষত্র): "নক্ষত্র" শব্দটি তৎসম শব্দ। এটি সরাসরি সংস্কৃত "নক্ষত্র" শব্দ থেকে এসেছে এবং এর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
30.
'সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করতে পারল না।'- এই বাক্য কী কারণে ত্রুটিপূর্ণ?
এখানে, "কৌতুক করার কৌতূহল" কথাটি অর্থগত দিক থেকে ভুল।
কৌতুক মানে হলো ঠাট্টা বা মজা করা।
কৌতূহল মানে হলো কিছু জানার বা দেখার প্রবল ইচ্ছা।
কেউ কৌতুক করে, কিন্তু কৌতুক করার ইচ্ছাকে কৌতূহল বলা হয় না। বরং, কোনো কিছু জানার বা দেখার ইচ্ছাকে কৌতূহল বলে। তাই বাক্যটিতে "কৌতুক করার কৌতূহল" প্রয়োগ করা ভুল।
যদি বাক্যটিকে সঠিক করতে হয়, তাহলে এর পরিবর্তে লেখা যেতে পারে, "সে কৌতুক করার ইচ্ছা সংবরণ করতে পারল না।" অথবা, “সে কৌতুক সংবরণ করতে পারল না।”
31.
সঠিক বানান কোনটি, চিহ্নিত করুন।
32.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
কিছু শুদ্ধ বানান: বয়োজ্যেষ্ঠ, বাল্মীকি, বিদুষী, বিভীষিকা, বুদ্ধিজীবী, বৈয়াকরণ, পৈতৃক, প্রণয়ন, প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রাণিবিদ্যা, প্রোজ্জ্বল/প্রজ্জ্বলন, ফটোস্ট্যাট, বহিষ্কার, ব্যর্থ, ব্যতীত ইত্যাদি।
33.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক হলো 'রূপমূল' যা Morpheme নামে পরিচিত। একটি রূপমূল এক বা একাধিক ধ্বনি দ্বারা গঠিত হতে পারে এবং এর নিজস্ব একটি অর্থ বা ব্যাকরণিক কাজ থাকে। 'শব্দ' একটি অর্থপূর্ণ একক হলেও তা একাধিক রূপমূলের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে; 'অক্ষর' ধ্বনিগত একক।
34.
হরতাল’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
হরতাল শব্দটি মূলত একটা গুজরাটি শব্দ যা সর্বাত্মক ধর্মঘটের প্রকাশক। গুজরাটি শব্দ : খদ্দর, হরতাল ইত্যাদি
35.
‘অধিত্যকা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
অধিত্যকা এর বিপরীত শব্দ উপত্যকা।
অন্ধকার - আলো
তিরোভাব - আবির্ভাব
হালকা - ভারী
36.
কোন শব্দে দ্বিস্বরধ্বনি রয়েছে?
যে স্বরধ্বনিতে দুটি স্বর একত্রে উচ্চারিত হয়, তাকে দ্বিস্বরধ্বনি বলে। 'লাউ' (আ+উ) এবং 'মেয়ে' (এ+এ) শব্দ দুটিতে দ্বিস্বরধ্বনি রয়েছে। তবে অপশনগুলোর মধ্যে 'লাউ' (আ+উ) একটি স্পষ্ট দ্বিস্বরধ্বনির উদাহরণ।
37.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে ?
বিভিন্ন বিদেশি ভাষার সঙ্গে সঙ্গে সে সব ভাষার কিছু কিছু উপসর্গও বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। এই সব বিদেশি ভাষার উপসর্গগুলোই বিদেশি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় বহু বিদেশি উপসর্গ রয়েছে। যেমন—বে, বর, বদ, ফি, গর, নিম, দর, কাম ইত্যাদি।
- প্রয়োগ: বে—বেয়াদব, বেসামাল। বদ—বদলোক, বদনাম।
- বাংলা ভাষায় বিদেশি উপসর্গগুলো সাধারণত আরবি, ফারসি, হিন্দি, উওর্দু ও ইংরেজি থেকে এসেছে।
38.
'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' বলতে কী বোঝানো হয়?
'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' শব্দটির অর্থ হচ্ছে 'পশু'। সাধারণভাবে, 'মৃগ' বলতে বন্য পশুর একটি শ্রেণী বোঝানো হয়, যেমন হরিণ বা অন্যান্য বন্য প্রাণী। তাই, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর 'পশু'।
39.
‘অভিরাম’ শব্দের অর্থ কী?
‘অভিরাম’ শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত। এর অর্থ মনোহর, সুন্দর, তৃপ্তিদায়ক। বিরামহীন শব্দের অর্থ বিরতিহীন। বালিশ শব্দের অর্থ উপাধান । চলন অর্থ গমন, ভ্রমণ, প্রথা, ধারা, রীতি, রেওয়াজ।
40.
কোনটি ‘বাতাস’ শব্দের সমর্থক শব্দ নয়?
‘বাতাস’ শব্দের সমার্থক শব্দ : মারুত, পবন, অনিল, সমীর, রাত, মরুৎ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, ‘পাবক’ শব্দের সমার্থক শব্দ : অগ্নি, আগুন, অনল, বহ্নি ইত্যাদি।
41.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
শুদ্ধ বানান- নিশীথিনী।
42.
পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি ঘটে?
পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের শুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না এটি একটি সাধারণ প্রবণতা।
43.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?
উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা এই তিন শব্দে ‘উপ’ উপসর্গ ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। উপভোগ শব্দে ‘বিশেষ’ অর্থে ‘উপ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
44.
রঞ্জন চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রক্তকরবী" নাটকে রঞ্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সে এই নাটকের মূল চরিত্রগুলির একজন, যার সাথে নন্দিনী এবং অন্যান্য চরিত্রদের সম্পর্ক রয়েছে।
অপশন ক) বিসর্জন: "বিসর্জন" নাটকের মূল চরিত্র অপর্ণা, গোবিন্দ মানিক্য, রঘুপতি ইত্যাদি। রঞ্জন এই নাটকের কোনো চরিত্র নয়।
অপশন গ) মুক্তধারা: "মুক্তধারা" নাটকের প্রধান চরিত্র হলেন উৎপল, সুকুমারেরা। রঞ্জন এখানে কোনো পরিচিত চরিত্র নয়।
অপশন ঘ) ডাকঘর: "ডাকঘর" নাটকের মূল চরিত্র অমল। রঞ্জন এই নাটকের কোনো চরিত্র নয়।
45.
‘আনারস’ ও ‘চাবি’ শব্দ দু’টি বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে –
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দঃ পাদ্রী, বালতি, আনারস, চাবি, আলপিন, পাউরুটি, গির্জা, গুদাম, আলমারি।পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার একটি কৌশল :
গীর্জার পাদ্রী চাবি দিয়ে গুদামের আলমারি খুলে তাতে পাউরুটি আনারস পেঁপে পেয়ারা আলপিন ও আলকাতরা রাখলেন।
46.
গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়-
গৌড়ী প্রাকৃত বলতে মূলত প্রাচীন গৌড় অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা বা কথ্য রূপকে বোঝানো হয়।
47.
বাক্যের মধ্যে শব্দ অবস্থান করে কীভাবে?
বাংলা বাক্যের শব্দবিন্যাসের প্রধান নিয়ম হলো প্রথমে কর্তা পরে কর্ম এবং সবশেষে ক্রিয়া বসে। অর্থাৎ পদবিন্যাস কর্তা ও ক্রিয়ার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
48.
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলে—
ক্রিয়াপদের মূল অংশকে 'ধাতু' বলা হয়। ক্রিয়া গঠন করতে হলে ধাতুর সাথে বিভক্তি, প্রত্যয় ইত্যাদি যুক্ত হয়। যেমন, 'করছে' ক্রিয়াপদের ধাতু হল 'কর্'।
অপশন ক) বিভক্তি: বিভক্তি হল কারক-প্রকরণ ও ক্রিয়ার কাল নির্ণয়ে ব্যবহৃত বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা পদের শেষে যুক্ত হয়। যেমন: 'আমি বই পড়ছি' – এখানে 'ছি' হল ক্রিয়ার বিভক্তি।
অপশন গ) প্রত্যয়: প্রত্যয় হল এক ধরণের বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে অথবা ক্রিয়াপদকে বিশেষ রূপ দেয়।
অপশন ঘ) কৃৎ: কৃৎ হল এক প্রকার প্রত্যয় যা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ পদ গঠন করে। যেমন: 'কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ' করা ' থেকে ' কাজ ' (বিশেষ্য) তৈরি হয়।
49.
‘বন্ধন’ শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
সাধারণ অর্থে অক্ষর বলতে বর্ণ বা হরফ (Letter)-কে বোঝালেও প্রকৃত অর্থে অক্ষর ও বর্ণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ নয়। অক্ষর হচ্ছে বাগযন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ। আর বর্ণ বা হরফ হচ্ছে ধ্বনির চক্ষুগ্রাহ্য লিখিতরূপ বা ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা প্রতীক। ইংরেজিতে আমরা যাকে Syllable বলে অভিহিত করি, তা-ই অক্ষর। বাংলা ‘বন্ধন’ শব্দেরও বন্ + ধন্এ দুটো অক্ষর। কিন্তু ব + ন্ + ধ + ন্– এগুলো অক্ষর নয়; এগুলো বর্ণ বা হরফ।
50.
কোন বানানটি প্রমিত?
সঠিক উত্তরটি হলো: পশ্চাদ্ভূমি।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানান অনুযায়ী, যখন 'ৎ' এর পর বর্গের তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ণ (যেমন: ব, ভ, দ, ধ, গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ) অথবা য, র, ল, ব, হ থাকে, তখন 'ৎ' এর স্থানে দ্ হয়।
পশ্চাদ্ভূমি: এখানে 'পশ্চাৎ' শব্দের 'ৎ' এর পর 'ভ' (বর্গের চতুর্থ বর্ণ) থাকায় 'ৎ' পরিবর্তিত হয়ে 'দ্' হয়েছে। তাই এটি প্রমিত বানান।
পশ্চাদপদ: এটি ভুল। এখানে 'পশ্চাৎ' এর 'ৎ' এর পর 'প' (বর্গের প্রথম বর্ণ) থাকায় 'ৎ' অপরিবর্তিত থাকবে। সঠিক বানান হবে পশ্চাৎপদ।
পশ্চাৎগামী: এটি সঠিক বানান। এখানে 'পশ্চাৎ' এর 'ৎ' এর পর 'গ' (বর্গের তৃতীয় বর্ণ) থাকায় 'ৎ' এর স্থানে 'দ্' হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে 'ৎ' অপরিবর্তিত থাকে, বিশেষ করে যখন দ্বিতীয় অংশটি সরাসরি ক্রিয়া বা গতি বোঝায়। তবে, পশ্চাদ্গামী বানানটিও ব্যবহৃত হয় এবং আরও প্রমিত। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে, 'পশ্চাৎগামী' ব্যাকরণগতভাবে ভুল না হলেও, 'পশ্চাদ্ভূমি' প্রমিত বানানের নিয়ম অনুযায়ী অধিকতর সঠিক।
পশ্চাৎবর্তী: এটিও ভুল। এখানে 'পশ্চাৎ' এর 'ৎ' এর পর 'ব' (বর্গের তৃতীয় বর্ণ) থাকায় 'ৎ' এর স্থানে 'দ্' হবে। সঠিক বানান হবে পশ্চাদ্বর্তী।