টপিকঃ বাংলা ভাষারীতি
1.
বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়?
উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয় ।
-এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
-আধুনিক যুগকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
-প্রথম পর্যায়ে ১৮০১ - ১৮৬০ পর্যন্ত,
-দ্বিতীয় পর্যায় ১৮৬১ থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত ।
2.
কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয়-
বাংলা লিপি কুটিল লিপির বিবর্তিত শাখা হিসেবে সেন যুগে স্থায়িত্ব পেতে শুরু করে। ১৭৭৮ সালে চার্লস উইলকিন্স তাঁর সহযোগী পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় প্রথম বাংলা মুদ্রণযোগ্য ধাতব অক্ষর বা হরফ তৈরি করেন। হ্যালহেডের "A Grammar of the Bengal Language" গ্রন্থে এই হরফ প্রথম ব্যবহৃত হয়।
3.
সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'।
সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য-
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে।
- সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে।
- সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।
4.
মানুষের ভাষাকে 'সাধু ভাষা' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন কে?
বাংলা ভাষারীতিতে 'সাধু ভাষা' পরিভাষাটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায়। ১৮১৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'বেদান্ত গ্রন্থ'-তে তিনি এই মার্জিত ও গুরুগম্ভীর ভাষাকে প্রথম অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই ভাষাকে আরও প্রাঞ্জল ও সুবিন্যস্ত করে তোলেন, যার কারণে তাঁকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়
5.
প্রমথ চৌধুরীর 'বীরবলী' রীতির প্রচার মাধ্যম হিসাবে কোন পত্রিকা ভূমিকা রাখে?
প্রমথ চৌধুরীর ‘বীরবলী’ রীতির প্রচারমাধ্যম হিসাবে ভূমিকা রাখে সবুজপত্র পত্রিকা।
6.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়?
- ১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরী জোশুয়া মার্সম্যানের সহযোগিতায় শ্রীরামপুর মিশনে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন।
- রংপুরে বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা ‘বার্তাবহ যন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৭-১৮৪৮ সালে।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন যার নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’। এখান থেকে ‘ঢাকা নিউজ’ নামে সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।
7.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী ?
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা। ভৌগোলিক অবস্থান ও অঞ্চলভেদে মানুষের কথ্য ভাষার যে ভিন্নতা দেখা যায়, তা-ই উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা নামে পরিচিত
8.
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে বোঝায়-
'প্রমিত বাংলা ভাষা' বলতে মূলত সর্বজনগ্রাহ্য ও আদর্শ চলিত রীতির বাংলা ভাষাকে বোঝায়। এটি আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে নির্দিষ্ট ব্যাকরণ ও বানান মেনে চলে। শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সকল আনুষ্ঠানিক কাজে এই মান্য বা প্রমিত রূপটি ব্যবহৃত হয়
9.
কোন শাসনামলে বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে?
পাঠান যুগে বাংলা লিপি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে।
10.
বাংলা ভাষার সর্বজন গ্রাহ্য লিখিত রূপ কোনটি?
লিখিত বাংলা বা লেখ্য ভাষারীতিকে প্রধানত সাধু ও চলিত (বর্তমানে চলিত রীতির মানসম্মত আদর্শ রূপই প্রমিত রীতি) রীতিতে ভাগ করা যায় । প্রমিত রীতি চলিত রীতিরই আধুনিক রূপ, এটি নিজে সাধু ও চলিতে বিভক্ত নয়।