টপিকঃ বাংলা ভাষা

বিষয়

বাংলা ব্যাকরণ

Free: 10 Qs

1.

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন-

ক) পালি
খ) প্রাকৃত
গ) বৈদিক
ঘ) ভোজপুরী
Note :

প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা হলো বৈদিক বা ছান্দস, সংস্কৃত, বৌদ্ধ - সংস্কৃত।

2.

প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ-

ক) মূর্খদের ভাষা
খ) পণ্ডিতদের ভাষা
গ) জনগণের ভাষা
ঘ) লেখকদের ভাষা
Note :

- প্রাকৃত বা প্রাকৃত ভাষা কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা।
- এক পর্যায়ে এ প্রাকৃত ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে।
- এ প্রাকৃত ভাষাই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হয়। যেমন - মাগধী প্রাকৃত,মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত,শৌরসেনী প্রাকৃত ইত্যাদি।
- মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।

3.

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়-

ক) সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে
খ) খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে
গ) সপ্তম খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
ঘ) খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকে
Note :

বাংলা ভাষার উদ্ভব হয় সপ্তম খ্রিষ্টাব্দে। বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরোনো।ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: উদ্ভবকাল ১০ম শতাব্দী (৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স প্রায় ১০০০ বছর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: উদ্ভবকাল ৭ম শতাব্দী (৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ), সেই হিসেবে বয়স ১৩৫০ বছরের বেশি বা প্রায় ১৪০০ বছর। চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। মধ্যভারতীয় আর্য ভাষাকে প্রাকৃত ভাষা বলে। প্রাকৃত ভাষার একটি শাখা হচ্ছে মাগধী ভাষা। মাগধী ভাষার পরের রূপ হচ্ছে মাগধী অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট । আর এ ভাষা থেকে ৭ম খ্রিষ্টাব্দে  বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

4.

সবুজপত্র বাংলা ভাষা ও সাহিেত্য কী হিসেবে পরিচিত?

ক) একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
খ) এক শ্রেণীর লেখকদের আলোচিত রচনা সংকলন
গ) বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রিকা
ঘ) অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ও নাটক
Note :

সবুজপত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য সাহিত্য পত্রিকা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান সাময়িক পত্রিকা ছিল সবুজপত্র । এটি প্রকাশিত হত প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২১ বঙ্গাব্দে এবং ইংরেজি  ১৯১৪ সালে। সবুজপত্রে কখনো কোন বিজ্ঞাপন বা ছবি প্রকাশিত হয় নি।

5.

উজবুক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?

ক) ফার্সি
খ) তুর্কি
গ) পর্তুগিজ
ঘ) আরবি
Note :

উজবুক' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। তুর্কি ভাষা থেকে আসা আরো কয়েকটি শব্দ হলো: চকমক, তালাশ, বাবুর্চি ,সওগাত,খোকা, বাবা ইত্যাদি।

6.

কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?

ক) ভারতীয় আর্য
খ) সংস্কৃত
গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
Note :

বঙ্গকামরুপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত,স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোন কোন রূপে কথা বলত, যাকে ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধী প্রাকৃতের পূর্ব রূপ বা ভ্যারাইটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়, বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।  প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল। এই উপভাষাগুলিকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয় এবং এটি আধুনিক বিহার,  বাংলা ও আসামে কথিত হত।  এই ভাষা থেকে অবশেষে অর্ধ - মাগধী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটে।   প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে অর্ধ - মাগধী থেকে অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে।  সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।

7.

নিচের কোনটির সাহায্যে মানুষ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে?

ক) ইঙ্গিতের সাহায্যে
খ) কণ্ঠধ্বনির সাহায্যে
গ) চিত্রাঙ্কনের সাহায্যে
ঘ) ইশারার সাহায্যে
Note :

মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনিকে ভাষা বলে। 

8.

ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায় , তার নাম-

ক) রামায়ণ
খ) ঋগ্বেদ
গ) মহাভারত
ঘ) চর্যাপদ
Note :

ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম হলো ঋগ্বেদ। ঋগ্বেদ হলো ভারতে রচিত সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্য গ্রন্থ। এটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা, এবং এর মধ্যে প্রথমবার ভারতীয় ভাষার লিখিত রূপ ও শব্দচয়ন দেখা যায়। তাই এটি ভারতীয় ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

9.

ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল কবে?

ক) ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
খ) ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে
গ) ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে
ঘ) ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে
Note :

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে (৬৫০ খ্রি) এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি দশম শতাব্দীতে।

10.

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কার কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী?

ক) পালি
খ) অপভ্রংশ
গ) অবহট্ট
ঘ) সংস্কৃত
Note :

ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রত্যক্ষভাবে অপভ্রংশ (বিশেষ করে মাগধী অপভ্রংশ)-এর কাছে ঋণী। 

প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়। পরবর্তীতে এই প্রাকৃত ভাষার পরিবর্তিত ও বিকৃত রূপ হিসেবে অপভ্রংশ এবং অবহট্ট ভাষার সৃষ্টি হয়। আর এই অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট । রূপ থেকেই কালক্রমে আধুনিক বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে। বাংলা ভাষার বিকাশের ধাপগুলো সাধারণত  নিম্নরূপ: বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা: বাংলা ভাষার মূল উৎস। প্রাকৃত ভাষা: সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, যার মধ্যে মাগধী প্রাকৃত প্রধান। অবহট্‌ঠ বা অবহট্ট : প্রাকৃতের আরও পরিবর্তিত রূপ। অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ শুরু করে।  বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির শুরুতেও অপভ্রংশের প্রভাব দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ-এর ভাষা মূলত অপভ্রংশ ওবাংলা ভাষার মিশ্রণে তৈরি। 

You've reached the free limit!

You can only see 10 questions with free access.

Login to upgrade