বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে রচিত হয়?
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণের রচনাস্থল হিসেবে গাজীপুর সঠিক উত্তর। বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে রচিত করার ক্ষেত্রে গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বাংলার ভাষাগত ও সাহিত্যিক গবেষণা শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার উন্নয়নে সহায়ক হয়।
Related Questions
পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ রচিত"Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes" বইটি ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন শহর থেকে সম্পূর্ণ রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিল l বইটি পর্তুগিজ মিশনারিদের বাংলা ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, এতে বাংলার নিজস্ব লিপির পরিবর্তে রোমান হরফ ব্যবহার করেই বাংলা শব্দ ও ব্যাকরণ লেখা হয়েছিল, কারণ তখনো বাংলায় মুদ্রণযন্ত্র বা ছাপার অক্ষরের প্রচলন হয়নি।
বাংলা ব্যাকরণ সর্বপ্রথম পর্তুগিজ ভাষায় লেখা হয়। ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে এই ব্যাকরণটি প্রকাশিত হয়।
• বইটির নাম:‘Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez’।
• এর রচয়িতা ছিলেন একজন পর্তুগিজ পাদ্রি, যার নাম মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ (Manoel da Assumpcam)।
• অন্যান্য তথ্য:
- ইংরেজি: ইংরেজি ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ লেখেন নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড (১৭৭৮ সালে)।
- সংস্কৃত: পাণিনি সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন, বাংলা ব্যাকরণ নয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ে অবস্থানকালে পর্তুগিজ ক্যাথলিক পাদ্রী মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ রোমান হরফে পর্তুগিজ ভাষায় ‘Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez. -Dividido Em Duas Partes' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
-এটি ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত একটি অভিধান।
-বাংলাভাষী জনগণের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের সুবিধার্থে তিনি পর্তুগিজ ভাষায় রোমান হরফে ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' (১৭৪৩) রচনা করেন, যা বাংলা কথ্যভাষার আদি গদ্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
-রাজা রামমোহন রায় রচিত 'Bengali Grammar in English Language' ১৮২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-এটি পরবর্তীতে ১৮৩৩ সালে তিনি ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ নামে অনূদিত করেন, যা বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
-নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘A Grammar of the Bengal Language', যা ১৭৭৮ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে চার্লস উইলকিনসের হুগলির মুদ্রণযন্ত্র থেকে গ্রন্থটির অংশবিশেষ বাংলায় মুদ্রিত হয়।
-রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী রচিত ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ ‘শব্দকথা’ (১৯১৭) ।
লঘু কৌমুদী ব্যাকরণের পাণিনি ধারার একটি অন্যতম প্রধান গ্রন্থ। প্রাচীন বৈয়াকরণিক পাণিনির বিখ্যাত 'অষ্টাধ্যায়ী' সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীকালে বরদরাজ এটি রচনা করেন।
পাণিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের (বর্তমান পাকিস্তানের শালাতুর অঞ্চল) সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাতত্ত্ববিদ । খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যে তার রচিত বিখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ 'অষ্টাধ্যায়ী' ভাষার গঠন ও ব্যাকরণ বিশ্লেষণে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি । তাকে প্রায়শই 'ভাষাবিজ্ঞানের জনক' বলা হয়ে থাকে
উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত পণ্ডিত পাণিনি। তিনি 'ভাষাবিজ্ঞানের জনক' হিসেবেও পরিচিত। পাণিনি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য: আবির্ভাব: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ থেকে ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি প্রাচীন ভারতে (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদ সংলগ্ন এলাকায়) জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ: তাঁর রচিত কালজয়ী সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'অষ্টাধ্যায়ী'। কর্মপদ্ধতি: এতে সংস্কৃত ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব এবং বাক্যতত্ত্বের প্রায় ৩,৯৫৯টি নিয়ম অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক উপায়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গভীর প্রভাব: তাঁর এই ব্যাকরণ কাঠামো আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান ও এমনকি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ভিত্তি নির্মাণে গভীর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে
জব সলুশন